তিলকখালীর নাম জিয়াখালী চায় এলাকাবাসী: খনন কাজ শুরু
বাংলার নেত্র
প্রকাশের সময় : মার্চ ৯, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ /
২৬৪
বিশেষ প্রতিনিধি . নেত্রকোনা সদর উপজেলার মেদিনী ইউনিয়নের তিলকখালি খালটি ১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খনন কাজের উদ্বোধন করেন। দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও এলাকার লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খালটি খনন করেন। চার দশকের ব্যবধানে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আজ সোমবার দুপুরে নেত্রকোনা সদরের কৃষ্ণাখালি এলাকায় খালের পুনঃখননের উদ্বোধন করেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি চিকিৎসক মো. আনোয়ারুল হক। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নেত্রকোনা জেলার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামানসহ নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মুজিবুর রহমান খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন ফারাসের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছাড়াও বক্তব্য দেন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান নুরু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হক, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বজলুর রহমান খান পাঠান, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম মনিরুজ্জামান দুদু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শফিকুল কাদের প্রমুখ।
সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল হক বলেন, ‘নির্বাচিত সরকার যে খাল পুনঃখননের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, সেটির অংশ হিসেবে এই তিলকখালি খাল পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করা হয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট নিজে এসে খালটি খনন কাজের উদ্বোধন করেন। এই খাল খননের মাধ্যমে জনগুরুত্বপূর্ণ এবং জনদাবি পূরণ হবে। এই কর্মসূচির কাজ শেষ হলে এলাকার সাধারণ মানুষ সুবিধা পাবে। এখানে প্রচুর জলাবদ্ধতা হয়। এই খালটা খননের মধ্য দিয়ে জলাবদ্ধতা দূর হবে। খালের পানি যখন সেচপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে খেতে যাবে, সেখানে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।’
তিনি বলেন, আজ থেকে ৪৭ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঠিকই বুঝেছিলেন এসব খাল, পুকুর, নদ-নদী নালা, ডোবা ভরাট হয়ে যাবে। তাই এগুলো খনন না করলে মানুষের দুর্ভোগ হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে না। তাই এই কর্মসূচিটা একটা আন্দোলন, একটা বিপ্লব। দেশকে স্বনির্ভর করাই আমাদের বর্তমান সরকার প্রধান তারেক রহমানের লক্ষ্য। খননকাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি যাতে না হয় সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। কারন আমাদের সরকার নির্বাচিত সরকার, জনবান্ধব সরকার। সম্পূর্ণভাবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আমাদের কাজ করতে হবে। স্থানীয়রা খালটির নাম জিয়াখালী করার দাবী তুলেছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে পুকুর খাল উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় তিলক কালি খালটির দৈর্ঘ্য ৪ কিলোমিটার ২০ মিটার। ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘আর এস জেড’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। গত ২৭ জানুয়ারি কাজ শুরু করে আগামী জুনের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে। স্থানভেদে খালের উপরিভাগের প্রশস্ত হবে ১৪ থেকে ১৫ মিটার। আর বটমে থাকবে ৪ মিটার। গভীর হবে পাঁচ থেকে সাত ফুট পর্যন্ত।
আপনার মতামত লিখুন :