Banglarnetro
Dr. Neem Hakim

দুর্গাপুরে ঘাতকের নির্মমতায় এতিম দুই শিশু, অসহায় পরিবারের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ


বাংলার নেত্র প্রকাশের সময় : মে ৬, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ / ৪৭
দুর্গাপুরে ঘাতকের নির্মমতায় এতিম দুই শিশু, অসহায় পরিবারের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

দিলোয়ার হোসেন তালুকদার

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে ঘাতকের নির্মমতায় প্রাণ হারানো ওয়াহিদুল ইসলাম কেলিসের পরিবার বর্তমানে অসহায় অবস্থায় দিন পার করছে। তার এতিম দুই শিশু আব্দুল্লাহ ও আলিফকে নিয়ে স্ত্রী মাহমুদা পড়েছেন মহা দুশ্চিন্তায়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তিকে হারিয়ে অসহায় পরিবারটির ভবিষ্যৎ আজ চরম অনিশ্চিত।

আজ কেলিসের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল তার সাড়ে তিন বছর বয়সী শিশু আব্দুল্লাহ বারবার বাবাকে ডাকছে। বাবাকে কাছে না পেয়ে খুব কান্না করছে। অপর সন্তান ১৯ মাস বয়সী আলিফ তার মায়ের কোলে বসে ফ্যালফ্যাল করে সবার দিকে তাকাচ্ছে। কি ঘটেছে তা বোঝার বয়স এখনো তার হয়নি।

গত শনিবার (২ মে) রাতে দুর্গাপুর পৌর শহরের তেরিবাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নূর মোহাম্মদ নামের এক মাদকাসক্ত যুবকের ছুরিকাঘাতে ওয়াহিদুল ইসলাম কেলিস গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার রাত ১১টার দিকে তেরিবাজার এলাকায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নূর মোহাম্মদ, ওয়াহিদুল ইসলাম কেলিসকে ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে ৷ পরে রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এই ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই পুলিশ নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

এদিকে কেলিসের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দুর্গাপুরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার পরিবার বর্তমানে খুব সংকটাপন্ন অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। কেলিসের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার বিলাপ করতে করতে বলেন, স্বামীকে হারিয়ে আমি আজ অসহায়। দুই অবুঝ সন্তান নিয়ে অকুল পাথারে পড়েছি। কিভাবে চলবো, সন্তানদের কিভাবে খাওয়াবো, কিভাবে তাদের মানুষ করবো জানি না। এতো কষ্ট আমি কাকে বলবো?

মাহমুদা যখন কান্নাজড়িত গলায় কথাগুলো বলছিলেন তখন তার দুই সন্তানও কাঁদছিলো। কাঁদছিলেন আশপাশে থাকা সকলেই। মাহমুদা বলেন, আমার স্বামীকে যে হত্যা করেছে আমি তার বিচার চাই।

কেলিস দুর্গাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতেন। তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় কবরস্থান কমিটি। কমিটির পক্ষ থেকে তার পরিবারের হাতে জরুরি খাদ্য সহায়তা ও নগদ অর্থ তুলে দেয়া হয়।

কবরস্থান কমিটির উপদেষ্টা ও তেরি বাজার বড় মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা আব্দুর রব এই ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এমন মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা সবাই হতবাক এবং শোকস্তব্ধ। কেলিসকে যে বা যারা এভাবে মেরেছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই। সেই সাথে সমাজের সকলের প্রতি আহ্বান জানাই এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ান।

স্থানীয় বাসিন্দা হাজী কাশেম মড়ল বলেন, কেলিস শুধু একজন স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের কবরস্থানের প্রাণ। দিন-রাত মানুষের শেষ বিদায়ে তিনি নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন। আজ তার পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া আমাদের নৈতিক আমানত।

কবরস্থান কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক হাওলাদার বলেন, কেলিসের সন্তানদের শিক্ষা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থায়ী তহবিল গঠন করা খুব জরুরি, যেন পরিবারটি দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক নিরাপত্তা পায়। তার সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গঠনে আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাই, দয়া করে পরিবারটির পাশে দাঁড়ান।

স্থানীয় সংগঠক সাখাওয়াত হোসেন সজীব বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবারটি প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আমরা সকলে তাদের পাশে দাঁড়ালে তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। সরকার এবং সমাজের সকলের কাছে আকুল আবেদন কেলিসের পরিবারকে সহযোগিতা করুন। আমরা কেলিস হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

দুর্গাপুর পৌর শহরে এই হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকার সাধারণ মানুষের উদ্যোগে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলাকাবাসী সকলেই বিচারের দাবিতে সোচ্চার অবস্থানে রয়েছেন।

কার্ড কাস্টমাইজ করুন

কার্ড ব্যাকগ্রাউন্ড
বর্ডার কালার
শিরোনাম রঙ
সাইজ: 70px
Version 3.2 | Developed by Shahin

সারাদেশ বিভাগের আরো খবর

আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর