Banglarnetro
Dr. Neem Hakim

পিআরের নামে জামায়াত নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছে: কায়সার কামাল


বাংলার নেত্র প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১, ২০২৫, ১:০১ অপরাহ্ণ / ৩৩৬
পিআরের নামে জামায়াত নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছে: কায়সার কামাল

বিশেষ প্রতিনিধি. নেত্রকোনার কলমাকান্দায় দুর্গাপূজায় অংশ নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপি নেতা কায়সার কামাল। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার চানপুর এলাকায় রামকৃষ্ণ মিশনে পিআর পদ্ধতির নামে জামায়াতে ইসলামে দেশে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল। মঙ্গলবার দুপুরে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার চানপুর এলাকায় রামকৃষ্ণ আশ্রমে দুর্গাপূজার অষ্টমীতে কুমারী পূজার একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।


কায়সার কামাল বলেন, ‘এখানে যাঁরা পিআরের কথা বলছেন, পিআরের জন্য কিন্তু দেশের মানুষ রক্ত দেয় নাই। পিআর নিয়ে যাঁরা দাবি করছেন, তাঁরা অনেকেই জানেন না পিআর কী জিনিস? সংসদীয় গণতন্ত্রের সূতিকাগার হচ্ছে ইংল্যান্ড। যারা পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসির উদ্ভাবক। তাদের দেশেও এখন পর্যন্ত পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হয় নাই। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত—যারা ডেমোক্রেসি প্র্যাকটিস করে, তাদের দেশেও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হয় না। পিআরের নাম নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করার জন্য বাংলাদেশে অপপ্রয়াস চালাচ্ছে, নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে, তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দিতে হবে।’


বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতির নামে নির্বাচনকে প্রলম্বিত বা বানচাল করার চেষ্টা করছে। তারা দেশে নতুন নতুন ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে। ষড়যন্ত্রটা কী, সেটা হচ্ছে—যেন গণতান্ত্রিক পরিবেশ বাংলাদেশে আর না হয়। বাংলাদেশে যেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হয়।’

কায়সার কামাল বলেন, ‘পিআরের দাবি থাকতেই পারে; কিন্তু যাদের দাবি আছে, তাদের দাবি নির্বাচনী মেনিফেস্টো (ইশতেহার) দিয়ে দিতে পারে। যারা বিভিন্ন ঠুনকো বাহানায় নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন রকমের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছিলাম আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে। এই গণতান্ত্রিক ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি। আপনারা-আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে সেই সংগ্রামে আমরা যুক্ত ছিলাম ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। এই ফ্যাসিবাদবিরোধী যে গণতান্ত্রিক ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে, আসুন আমরা সেই গণতান্ত্রিক ঐক্যকে সমুন্নত রাখি, আরও শক্তিশালী করি।’

কুমারী পূজা নিয়ে কায়সার কামাল তার বক্তব্যে বলেন, ‘কুমারী পূজা হলো নারীকে মাতৃশক্তির প্রতীক হিসেবে শ্রদ্ধা করা। হিন্দুধর্মের শাস্ত্রে আছে, প্রত্যেক নারীর মধ্যেই দেবীশক্তি বিদ্যমান। এই পূজার মাধ্যমে সেই শক্তিকে সম্মান জানানোর জন্য কুমারী পূজা করা হয়। স্বামী বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ মিশনে প্রথম কুমারী পূজা প্রচলন করেন। এই দুর্গাপূজার মধ্য দিয়ে সবার মধ্যে সম্প্রীতি বিরাজমান হোক।…আমরা সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ নিয়ে শান্তিতে দেশে বসবাস করতে চাই।’

এসময় রামকৃষ্ণ আশ্রম কমিটির সভাপতি অনুজ চক্রবর্তী, কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ খায়ের, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, প্রেসক্লাব সভাপতি শেখ শামীম সহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

সারাদেশ বিভাগের আরো খবর

আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর