
***আল মাহমুদ বাংলা মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে ফেলেছিলেন***- এনামূল হক পলাশ
আল মাহমুদ রে নিয়া কথা কওয়ার সময় অতীতে কেউ কেউ আমার সাথে তর্কে লিপ্ত হতেন। তাদের কাছে আল মাহমুদের কাব্য শক্তি বা অসাধারণ সৃষ্টিগুলোর কোন মূল্য নেই। তিনি নাকি শেষ বয়সে জামায়াতে ইসলামে যোগ দিয়ে সকল যোগ্যতা হারিয়েছেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা যখন জামায়াতকে সমর্থন করবেন তখন বুঝতে হবে তিনি যে উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করেছেন সে উদ্দেশ্য পূর্ণ হয় নি। তার স্বপ্ন হাইজ্যাক হয়েছে অথবা তিনি প্রতারিত হয়েছেন। আমি ঠিক জানি না তিনি জামায়াতে যোগ দিয়েছিলেন কি না। কারণ এইসব বিষয়ে আমার আগ্রহ নাই। আমি শুধুমাত্র তার কাব্য সুধা পান করেছি। তার মৃত্যুর পর যখন তাকে গ্রামে দাফন করতে নিয়ে যাওয়া হলো তখন একটা কবিতা লিখেছিলাম যার শেষ দুটি লাইন এখানে দিচ্ছি –
“আমাকে দিওনা কবর বুদ্ধিজীবী মাজারে
আমাকে রেখোনা ধরে ভিড় বাট্টা বাজারে।”
আজ কবি আল মাহমুদ এর জন্মদিন। আসেন একটা কবিতা পড়ে বাংলা সাহিত্যের এই শক্তিমান কবিকে স্মরণ করি-
***নোলক***
আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে
হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।
নদীর কাছে গিয়েছিলাম, আছে তোমার কাছে?
হাত দিওনা আমার শরীর ভরা বোয়াল মাছে।
বললো কেঁদে তিতাস নদী হরিণবেড়ের বাঁকে
শাদা পালক বকরা যেথায় পাখ ছড়িয়ে থাকে।
জল ছাড়িয়ে দল হারিয়ে গেলাম বনের দিক
সবুজ বনের হরিণ টিয়ে করে রে ঝিকমিক।
বনের কাছে এই মিনতি, ফিরিয়ে দেবে ভাই,
আমার মায়ের গয়না নিয়ে ঘরকে যেতে চাই।
কোথায় পাবো তোমার মায়ের হারিয়ে যাওয়া ধন
আমরা তো সব পাখপাখালি বনের সাধারণ।
সবুজ চুলে ফুল পিন্দেছি নোলক পরি নাতো!
ফুলের গন্ধ চাও যদি নাও, হাত পাতো হাত পাতো।
বলে পাহাড় দেখায় তাহার আহার ভরা বুক
হাজার হরিণ পাতার ফাঁকে বাঁকিয়ে রাখে মুখ।
এলিয়ে খোঁপা রাত্রি এলেন, ফের বাড়ালাম পা
আমার মায়ের গয়না ছাড়া ঘরকে যাবো না।
আল মাহমুদ হয়তো বাংলা মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে ফেলেছিলেন। আমরা কি সেই নোলক আর খুঁজে পাবো?
১১ জুলাই ২০২৫, নেত্রকোণা। লেখক – কবি, ভাবুক ও সুফি জ্ঞানী।
আপনার মতামত লিখুন :