
বিশেষ প্রতিনিধি. মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক ও সাংবাদিক খালেকদাদ চৌধুরীর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় জেলা গণগ্রন্থাগারের মিলনায়তনে খালেদাদ চৌধুরী সাহিত্য সংসদের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান। প্রধান বক্তা জেলা বিএনপির সভাপতি অর্থোপেডিক চিকিৎসক মো. আনোয়ারুল হক। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কবি ননী গোপাল সরকারের সভাপতিত্বে ও খালেকদাদ চৌধুরীর পৌত্র কবি তানভীর জাহান চৌধুরী সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, খালেকদাদ চৌধুরীর ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রাবন্ধিক হায়দার জাহান চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুখময় সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল সরকার, জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী, দৈনিক ভোরের জাহানের সম্পাদক মোশারফ হোসেন। খালেকদাদ চৌধুরীর জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রবন্ধ পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আজমেরি ইসলাম।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, খালেকদাদ চৌধুরী স্বমহিমায় নিজেকে প্রস্ফুটিত করেছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর সম্পাদিত সাহিত্য পত্রিকা ‘উত্তর আকাশ’ ফের চালু করাসহ অপ্রকাশিত সাহিত্যকর্ম প্রকাশে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।
আনোয়ারুল হক বলেন, সাহিত্য-সংস্কৃতির একটি সমৃদ্ধ জায়গা নেত্রকোনা। খালেকদাদ চৌধুরী এ উর্বর ভূমির সন্তান। তাঁর লেখার মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রাম ও লোকসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে তিনি জীবনভর মানবমুক্তির জয়গান গেয়ে গেছেন। তাঁর জীবন ও কর্মকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরাই খালেকদাদ চৌধুরী স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে।

খালেকদাদ চৌধুরী ১৯০৭ সালে নেত্রকোনার মদনের চানগাঁও এলাকায় তাঁর নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯২৪ সালে নেত্রকোনার দত্ত উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক, ১৯২৬ সালে কলকাতা রিপন কলেজ থেকে আইএ ও কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি কলকাতা কর্পোরেশনের একটি স্কুলে কিছুদিন শিক্ষকতা করার পর ১৯৪১ সালে তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। ১৯২২ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত কবি বন্ধে আলী মিয়া সম্পাদিত বিকাশ পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। ১৯৪১ সালে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত ‘দৈনিক নবযুগ’ পত্রিকার শিশু বিভাগ সম্পাদনা করতেন। ১৯৬১ সালে সরকারি চাকুরি ইস্তফা দিয়ে সাহিত্য চর্চায় মনোনিবেশ করেন। নেত্রকোনা থেকে ‘উত্তর আকাশ’নামে মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ওই পত্রিকায় সাহিত্য চর্চা করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ, হেলাল হাফিজ, রফিক আজাদ, জীবন চৌধুরী, শান্তিময় বিশ্বাসসহ অনেক কবি সাহিত্যিক। তিনি নেত্রকোনা সাধারণ গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেন। গ্রন্থাগারের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে তিনি ‘সৃজনী’ নামে আরেকটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রক্তাত্ত অধ্যায়, একটি আত্মার অপমৃত্যু, এ মাটি রক্তে রাঙ্গা, শতাব্দীর দুই দিগন্ত উল্লেখযোগ্য। তিনি বিখ্যাত মরু সাহারা, বাহার-ই-স্তান-ই-গায়েবী, ওরসে কারবালা, বেদুইনের মেয়ে গ্রন্থের অনুবাধক।
তিনি ১৯৮৫ সালের ১৬ অক্টোবর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজ ১৪০৩ সাল থেকে পহেলা ফাল্গুন বসন্তকালীন সাহিত্য উৎসব ও খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করে আসছে।
আপনার মতামত লিখুন :