
নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের জামাটি গ্রামে পারিবারিক শত্রুতার জেরে নৃশংসভাবে নিহত নূর মোহাম্মদের পরিবারের পক্ষ নিয়ে গ্রামবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে। তারা খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ৩০ আগস্ট রাত ৯টার দিকে আপন চাচাতো ভাই মাতুর নেতৃত্বে তার ছেলে, ভাই ও ভাতিজারা মিলে পরিকল্পিতভাবে নূর মোহাম্মদকে ডেকে নেয়। পরে লাঠি ও ডেঁগার দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। চিৎকার শুনে স্বজনরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
হত্যার পর নিহতের পিতা ১৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রধান আসামিসহ অধিকাংশকে গ্রেপ্তার না করায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার জেলা শহরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ইউনিয়নবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। তারা হাত উঁচু করে শপথ নেন— নূর মোহাম্মদের হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, “যারা নূর মোহাম্মদকে প্রকাশ্যে হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসি চাই। প্রশাসনকে যদি এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে না দেখি, তবে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাব।”
মানববন্ধনে নিহতের স্বজনরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের ভাইকে নির্দয়ভাবে হত্যা করেছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। এ হত্যার বিচার না হলে মানুষ আর আইন-আদালতের ওপর আস্থা রাখবে না।”

নিহত নূর মোহাম্মদের চাচা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা তুলে নিতে আসামি ও তাদের লোকজন আমাদের নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছেন। আমরা এখন আতঙ্কে আছি। ১৭ জন আমিদের মধ্যে মাত্র দুজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি করছি।’
জেলা প্রশাসক অনুপস্থিত থাকায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এলাকাবাসীর অভিযোগ গ্রহণ করেন। পুলিশ সুপার জানান, এ মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।
এলাকাবাসীর দাবি— মামলাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করতে হবে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দোষীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হয়ে গেলে নেত্রকোনায় আরও বড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :