Banglarnetro
Dr. Neem Hakim

মোহনগঞ্জে গাছ কেটে নেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন


বাংলার নেত্র প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫, ১০:৩১ অপরাহ্ণ / ১৭৩
মোহনগঞ্জে গাছ কেটে নেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন

মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় সড়কের দু’পাশে থাকা অসংখ্য গাছ কেটে নেওয়ার প্রতিবাদে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় বিদ্যালয় সংলগ্ন ওই সড়কে ‘তন্ময় চাষি’ নামে এক দলিল লেখকের বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর ব্যানারে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন অংশ গ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আলী আহসান, সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শহীদ উল্লাহ খান, সহকারী শিক্ষক আমিনুল হক, লুৎফর রহমান, জয়নাল আবেদীন, শিক্ষার্থীর অভিভাবক গোলাম কিবরিয়া, আব্দুর রব, নূরুল হক, রহমত আলী, শাজাহান মিয়া, মন্টু মিয়া, বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী অনামিকা আক্তার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এসময় বক্তারা বলেন, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের দানকৃত পাশের জমি থেকে মাটি কেটে বিদ্যালয়ের ঘর নির্মাণের জন্য উঁচু ভিটে তৈরির ফলে সেখানে প্রায় এক একর আয়তনের একটি ডোবার সৃষ্টি হয়। আর তখন থেকেই ওই ডোবা থেকে স্থানীয় কৃষকেরা তাদের বোরো জমিতে সেচের পানি দিয়ে আসছিল। কিন্তু গত প্রায় ৩-৪ বছর যাবত বিদ্যালযের পার্শ্ববর্তী নতুন কামালপুর গ্রামের বাসিন্দা তারিকুজ্জামান চাষির ছেলে দলিল লেখক তন্ময় চাষি বিদ্যালয়ের ওই ডোবাটি তার দখলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এ নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। বিজ্ঞ আদালত ওই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ ওই ডোবায় না যাওয়ার জন্য উভয় পক্ষকে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এসময় বক্তারা আরো বলেন, দলিল লেখক তন্ময় চাষি আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই ডোবাটি তিনি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে সেখানে শত-শত বাঁশ পুতে গাছের ডাল ফেলে হাওরের মাছ আহরণের জন্য ঘের তৈরি করতে গিয়ে গত শুক্র ও শনিবার দুই দিন তিনি তার লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার একমাত্র সরকারি রাস্তাটির দুই পাশে থাকা সকল গাছ কেটে ডোবায় ফেলে দেন। বর্ষাকালে ওই গাছগুলোই হাওরের ঢেউয়ের আঘাত থেকে এই রাস্তাটিকে রক্ষা করে আসছিল। এমতাবস্থায় অবৈধ দখলদার ও গাছ খেকো দলিল লেখক তন্ময় চাষিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।
এ বিষয়ে জানতে দলিল লেখক তন্ময় চাষির মোবাইল ফোনে যোগাযোগ সম্ভব না হলেও তার পিতা তারিকুজ্জান চাষি এ বিষয়ে বলেন, বিদ্যালয়ের রাস্তার গাছ কে বা কাহারা কেটে নিয়েছে তা আমরা কিছুই জানিনা। তবে ডোবাটি আমার মালিকানাধীন এবং রেকর্ডকৃত জমি বিধায় সেখানে আমি বাঁশ ও গাছের ডাল কিনে মাছ আহরণের জন্য কাঠা (ঘের) দিয়েছি। এছাড়া ওই ডোবাটি নিয়ে আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা পাননি বলেও জানান তিনি।

সারাদেশ বিভাগের আরো খবর

আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর