
দিলোয়ার হোসেন তালুকদার
নেত্রকোণার দুর্গাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানের নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী গোরখোদক ওয়াহিদুল ইসলাম কেলিসকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে তেরীবাজার এলাকার সাধারণ মানুষ। আজ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে তেরীবাজার বড় মসজিদের সামনে এই বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই শত শত মুসল্লি মসজিদের সামনে জমায়েত হন। কেলিস হত্যার বিচার দাবিতে সাধারণ এলাকাবাসীর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে মুসল্লিরাও মানববন্ধনে শরিক হন। এ সময় পুরো এলাকা স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লোকজনের হাতে থাকা ব্যানারে বড় করে লেখা ছিল “ফাঁসি চাই”। শোকার্ত এলাকাবাসী খুনি নূর মোহাম্মদসহ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয়রা জানান, কেলিস একজন পরোপকারী মানুষ ছিলেন। নিঃস্বার্থভাবে মৃত মানুষের কবর খুঁড়ে তিনি এলাকাবাসীর সেবা করতেন। এমন একজন মানুষকে যারা হত্যা করেছে, তাদের সমাজে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।
মানববন্ধনে মুফতী আশরাফুর রহমান আনসারী বলেন কেলিস ছিলেন আমাদের সমাজের এক নিঃস্বার্থ খাদেম। একজন মানুষ যে সারা জীবন মানুষের শেষ বিদায়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাকে এভাবে হত্যা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা সাধারণ আদালতে দীর্ঘসূত্রিতা চাই না; দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে চিহ্নিত অপরাধী নূর মোহাম্মদসহ সকল খুনিদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী ফারুক মড়ল বলেন “কেলিস ছিলেন মানবতার সেবক। এলাকার সকল সামাজিক কাজে সবার আগে তাকে পাওয়া যেত। তাকে হত্যার মাধ্যমে পুরো দুর্গাপুরের বিবেককে আঘাত করা হয়েছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে খুনিদের ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।
সাখাওয়াত হোসেন সজীব বলেন
“এই হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত পরিকল্পিত ও নৃশংস। সমাজ থেকে এই ধরনের অপরাধ নির্মূল করতে হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কোনো বিকল্প নেই। নিহত কেলিসের দুটি শিশু সন্তান রেখে গেছেন। অসহায় পরিবারটির সহযোগিতা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
তেরীবাজার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জানানো হয়,অতি দ্রুত দোষীদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হয়, তবে পুরো দুর্গাপুরবাসীকে সাথে নিয়ে আরও বৃহৎ গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :