Banglarnetro
Dr. Neem Hakim

নেত্রকোণা সদরে ৫৪ বছরেও মন্ত্রী দেয়নি বিএনপি,এবার দাবী করলেন স্থানীয়রা


বাংলার নেত্র প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ / ১৩২
নেত্রকোণা সদরে ৫৪ বছরেও মন্ত্রী দেয়নি বিএনপি,এবার দাবী করলেন স্থানীয়রা

বিশেষ প্রতিনিধি. নেত্রকোনা জেলার ১০ টি উপজেলা নিয়ে ৫ টি নির্বাচনী আসন গঠিত। এরমধ্যে নেত্রকোণা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনটিতে কখনোই মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দেয়নি বিএনপি সরকার। অবশ্য এই আসনটিতে আওয়ামীলীগ থেকে ২ বার প্রতিমন্ত্রী দিয়েছিল। এ কারণে বিএনপির সরকারের সময় সদরের এই আসনে কাঙ্খিত উন্নয়ন, শিল্প কারখানা বা কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। এবার সামাজিক মাধ্যম সহ বিভিন্ন মাধ্যমে জেলা সদরের এই আসনটিতে উন্নয়নের স্বার্থে মন্ত্রী দেওয়ার দাবী তোলেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবন্দসহ স্থানীয় লোকজন। এবার এই আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক আনোয়ারুল হক।

স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পর থেকে সাবেক জেলা বিএনপির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন খান এমপি নির্বাচিত হন ১৯৭৯ সালে। পরে আসনটিতে ১৯৯১ সালে বিএনপি থেকে আবু আব্বাছ এমপি নির্বাচিত হন। এছাড়া ছিল আসনটি আওয়ামীলীগের দখলে। ২০০১ আব্দুল মোমেন, ১৯৯৬ ফজলুর রহমান আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে ফুটবলার আরিফ খান জয় আওয়ামীলীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী হন। এরপর ২০১৮ সালে আশরাফ আলী খান খসরু আওয়ামীলীগ থেকে এমপি নির্বাচিত মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পুনরায় ২০২৪ সালে আশরাফ আলী খান খসরু আওয়ামীলীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হন। তবে, এই আসনে কখনোই বিএনপি থেকে মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হয়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহট্টা) আসনে লক্ষাধিক ভোট বেশি পেয়ে আনোয়ারুল হক বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে, বিএনপি থেকে ধানের শীষের প্রতিক নিয়ে অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক ১ লাখ ৭১ হাজার ৩৯৯ট ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের এনসিপির প্রার্থী ফাহিম রহমান খান পাঠানের প্রাপ্ত ভোট ৬৭ হাজার ৩৬৭টি। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী ১ লাখ ৪ হাজার ৩২ ভোট বেশি পান।

সদর বারহাট্টা আসনে নারী, পুরুষ ও তৃতীয় লিঙ্গের মোট ৫ লাখ ২ হাজার ৪৩৮ জন ভোটার রয়েছেন। তার মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ১২ জন। মোট প্রদেয় ভোট ২ লাখ ৭০ হাজার ২৮৫ ভোটার। প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার ৫৩.৭৯%।

নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বজলুল কাদের সুজা বলেন, জেলা সদর থেকে মন্ত্রী পরিষদে সদস্য না থাকলে জেলার সুষম উন্নয়ন হয়না। অতীতেও আমরা কোনও মন্ত্রী পায়নি। স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও জেলা শহরকে মনে হয় কোনো উপজেলা শহরের চেয়েও অনুন্নত। তাই এবার আমরা যেকোনো দফতরে মন্ত্রী চাই। আমাদের অনেক ঠকানো হয়েছে। এবার আমরা যোগ্য এমপিকে সংসদে পাঠিয়েছি। তাই এবার আমরা মন্ত্রী চাই।

জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু বলেন, এই আসনে আওয়ামীলীগ দুবার মন্ত্রী দিয়েছে। কিন্তু আমরা কখনো মন্ত্রী পাইনি। অধ্যাপক আনোয়ারুল হক যোগ্য নেতা। তাকে মন্ত্রী পরিষদে জায়গা দেওয়া হলে এলাকার পাশাপাশি রাষ্ট্রের উন্নয়নেও তিনি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

সারাদেশ বিভাগের আরো খবর

আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর