
মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ জটিলতায় গত এপ্রিল-মে দুই মাসের বেতন ও ঈদুল আযহার বোনাস উত্তোলন করতে পারছেন না কলেজের ৬১জন শিক্ষক কর্মচারী।
শনিবার (২৪ মে) মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষক কর্মচারীরা জানায়, এই কলেজে ৪ জন খন্ডকালীনসহ ৩৯জন শিক্ষক ও ১৫ জন খন্ডকালীনসহ ২২ জন কর্মচারী নিযুক্ত রয়েছেন। গত ১৪ এপ্রিল কলেজের পূর্ববর্তী অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আবুল হোসেন চৌধুরী পিআরএলে যান। এতে অধ্যক্ষের পদটি শূন্য হয়। বিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের ১ম জ্যৈষ্ঠ শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে কলেজের ১ম জ্যৈষ্ঠ শিক্ষক সৈয়দা নার্গিস ফারজানার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের একটি অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে।শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও দাবির প্রেক্ষিতে ১ম জ্যৈষ্ঠ শিক্ষক সৈয়দা নার্গিস ফারজানাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব না দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সকল শিক্ষকের স্বাক্ষরে কলেজের দ্বিতীয় জ্যৈষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে ইমাম হাসানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইমাম হাসান কলেজের সার্বিক আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা প্রাপ্তির অনুমোদনের আবেদনপত্র মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর অধিকতর তদন্ত ও সুরাহার স্বার্থে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখে।
অপরদিকে কলেজের দায়িত্বে থাকা অধ্যক্ষ বা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শিক্ষক কর্মচারীদের আইবাসে বেতন অনুমোদনকারী কর্মকর্তা ড্রয়িং এন্ড ডিসবার্সিং অফিসার (ডিডিও) হিসেবে নিযুক্ত থাকেন। কিন্তু পূর্ববর্তী অধ্যক্ষ পিআরএলে থাকায় এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন না পাওয়ায় আইবাস সফটওয়ারের ডিডিও হিসেবে বেতন ভাতা অনুমোদন আটকে রয়েছে। ফলে কলেজের শিক্ষক কর্মচারীরা দুই মাসের বেতন ও ঈদুল আযহার বোনাস উত্তোলন করতে পারছেন না। ফলে কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
বেতন-বোনাস প্রাপ্তির অনিশ্চয়তার বিষয়ে কলেজের হিসাবরক্ষক শিপার আহমেদ বলেন, দুই মাসের বেতন ও ঈদের বোনাস উত্তোলন করা নিয়ে কলেজের ৬১ জন শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে বেতন বোনাস নিয়ে জটিলতা নিরসনের জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহোদয়কে অনুরোধ করেছি। অধ্যক্ষ মহোদয় উর্ধতন কতৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলমান সংকট নিরসনের আশ্বাস দিয়েছেন।
কলেজের ১ম জ্যৈষ্ঠ শিক্ষক সৈয়দা নার্গিস ফারজানা বলেন, বিধি মোতাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও কলেজের কিছু শিক্ষার্থী ও একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এমনকি জ্যৈষ্ঠতার অনাপত্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে ওই চক্র আমাকে অনবরত চাপ দিয়ে যাচ্ছে।
মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইমাম হাসান বলেন, শিক্ষক সৈয়দা নার্গিস ফারজানা চাকুরিতে আমার পনেরো মিনিট আগে যোগদান করার কারণে তিনি এই কলেজে জ্যৈষ্ঠতা অর্জন করেছেন। কিন্তু ছাত্রদের আন্দোলন ও দাবির কারণে আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। তবে শীঘ্রই এই কলেজে একজন অধ্যক্ষ যোগদান করবেন। আর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বোনাস ঈদের আগে উত্তোলনের ব্যবস্থা করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
আপনার মতামত লিখুন :